
সুনামগঞ্জে ৭ বছরে একদিনও বন্ধ হয়নি সোশ্যাল চ্যারিটির ইফতার #3
সুনামগঞ্জ পৌরশহরের প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের সামনের সড়ক। এই সড়কে বিকেল চারটার পর থেকে হতদরিদ্র, নিম্ন আয়ের নারী-পুরুষ এবং ছিন্নমূল শিশুদের ভিড় চোখে পড়বে। চার বছরের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধ সবাই এককাতারে দাঁড়ান ইফতার সংগ্রহ করার জন্য। তারা জানেন এই জায়গায় দাঁড়ালে কেউ খালি হাতে ফিরবেন না।
সুনামগঞ্জ সোশ্যাল চ্যারিটি ফাউন্ডেশন গত সাত বছর ধরে সুবিধা বঞ্চিত ও হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে ইফতার বিতরণ করে আসছে এবং এই কার্যক্রম একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। শুধু এই ইফতার বিতরণ কার্যক্রমই নয় এই সংগঠনটি প্রতি ঈদেও হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কমিউনিটি সেন্টারে গোস্ত পোলাও খাবারের ব্যবস্থা করে থাকেন। সুনামগঞ্জ সোশ্যাল চ্যারিটির পক্ষ থেকে প্রতিদিন দুইশো মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়।
সুনামগঞ্জের শহরের হাছননগর এলাকাট বেদানা মিয়া প্রতি রোজায় সোশ্যাল চ্যারিটির ইফতারের জন্য লাইনে দাঁড়ান। বেদানা মিয়া বলেন, ‘আমি প্রত্যেক রোজাত আইয়া ইফতার লই, তারা কোনো দিন বিরক্ত অয় না। আমি গত সাত বছর ধরিওই ইফতার লই, রোজাত আমি ইফতার খাওয়ার লাগি চিন্তা করি না, কারণ আমি জানি নাসিম তারা ইফতারের ব্যবস্থা খরে, সামনের দিনেও তারা ইফতার খাওয়াইবো। আমরা তারার লাগি দোয়া করি। আল্লায় আরো তাওফিক দিতা তারারে, আরো বরকত দিতা।’
শান্তিগঞ্জ উপজেলার আব্দুল মালিক (৬০) ও তার প্রতিবন্ধী ছেলে দিলোয়ার হোসেন (১৪) ভিক্ষা করেন। সারা দিন ভিক্ষা করে ইফতারের আগে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের সামনে আসেন তিনি। তিনি জানেন এখানে আসলে ইফতার পাওয়া যাবে।
আব্দুল মালিক বলেন, ‘নিজের সহায় সম্বল না থাকায় আমার প্রতিবন্ধী ফোয়ারে লইয়া মানুষের কাছে ভিক্ষা খরি, সারা দিনে যা- ই পাই পরিবার চালাই, সারা দিন মাইষের ধারো ধারো ঘুইরা তারা ইফতার দেয়। এই ইফতার খাইয়া জান বাঁচাই।’
এই চ্যারিটির সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত আছেন, মাহফুজুর রহমান তপু, সাইফুল ইসলাম রাহী, জালাল উদ্দিন আকবর ও ইসতিয়াক সাজ্জাদ পিয়াল প্রমুখ।
সাইফুল ইসলাম রাহী বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন দুইশো মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করি, এই আয়োজনে পোলাও, ডিম, ছোলা, খেঁজুর, পিঁয়াজি দেওয়া হয়। একদিনে প্রায় নয় হাজার টাকার ইফতার লাগে।’
সোশ্যাল চ্যারিটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়ক ইজাজুল হক চৌধুরী নাসিম বলেন, ‘রোজায় আসলে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের কষ্টের শেষ থাকেনা। তাদের কষ্ট কিছুটা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে প্রথমে আমরা কয়েকজন মিলে নিজেদের পকেট মানি দিয়ে এই সোশ্যাল চ্যারিটির কার্যক্রমটি শুরু করি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল রোজায় একবেলা মানুষকে খাওয়াবো। সেই চেষ্টা থেকেই আমদের এই উদ্যোগ।’
কয়েক বছর যাওয়ার পর আমাদের মানবিক উদ্যোগে দেশ-বিদেশের অনেকেই সম্পৃক্ত হয়েছেন। এখন আমাদের কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে। আমরা প্রতিদিন দুইশো মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করি। রোজার ৩০ দিন শেষে আমরা ঈদের দিনও তাদের জন্য পোলাও গোস্ত খাবার ব্যবস্থা করি। ঈদের দিনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে রোজার কার্যক্রমের ওই বছরের সমাপ্তি দেওয়া হয়। গত সাত বছর ধরে চালু কার্যক্রম একদিনের জন্যও বন্ধ করিনি। আমরা এই কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।