ঢাকা
১৮ চৈত্র ১৪৩৩, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
খবরের কাগজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রিশালে কোটি টাকার সড়কে হাত দিতেই উঠে এল কার্পেটিং #2

ত্রিশালে কোটি টাকার সড়কে হাত দিতেই উঠে এল কার্পেটিং #2

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এক কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক পাকাকরণের সব কাজ শেষ করে কার্পেটিং করা হয়েছে। কিন্তু হাত দিতেই পিচঢালাইয়ের কার্পেটিং উঠে আসছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। 

বলা হচ্ছে, দায়সারাভাবে কাজ করে সরকারি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। স্থানীয়দের বাধায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের উকিলবাড়ী কে বি আই সড়ক থেকে দরিকাঁঠাল সড়ক পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়কের কাজে এ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক কিলোমিটার সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশে কার্পেটিং করা হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে লোকজন হাতে টেনে টেনে কার্পেটিং তুলছেন।  

উপজেলা এলজিইডির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের দরিকাঁঠাল থেকে কাজীরশিমলা পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রহমান এন্টারপ্রাইজ। এর প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮৪ টাকা। ২০২৪ সালেই সড়কের কাজ শুরু হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা হয়নি। গত কয়েকদিনে ১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৪০০ মিটার সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করতে থাকেন। কাজের মান নিয়ে স্থানীয় লোকজন অনেকবার প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি ঠিকাদার। শেষ পর্যায়ে দায়সারাভাবে কার্পেটিং করা হচ্ছে। সড়কের ওপর পড়া ময়লা ও ধুলাবালি পরিষ্কার না করেই বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের কাজে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করেনি। ঠিকাদার দায়সারাভাবে কাজ করেছে। এখন হাত দিতেই কার্পেটিং উঠে আসছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল মিয়া বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে থেকে সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করে ঠিকাদার। ইটের ওপর ময়লা ও মাটি পরিষ্কার না করেই কার্পেটিং করা হয়েছে। উপকরণ কম ও নিম্নমানের ব্যবহার করার কারণেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। অথচ ঠিকাদার সড়কটি এক নজর দেখতেও আসেননি। তার প্রতিনিধিকে দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে দায়সারাভাবে সড়কের পুরো কাজ শেষ করা হচ্ছে।

ফরহাদ হোসেন নামের আরেকজন বলেন, দীর্ঘ বছর পর খানাখন্দভরা সড়কটি পাকাকরণ হচ্ছে। অথচ শুরু থেকেই পাকাকরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছিলেন স্থানীয়রা। এতে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেনি। ঠিকাদার দায়সারাভাবে কাজ করায় আগামী বর্ষায় সড়কে খানাখন্দ তৈরি হয়ে এলাকাবাসী দীর্ঘমেয়াদে দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সড়কের নির্মাণকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং প্রশাসনের বক্তব্যে দ্বিমত তৈরি হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি নিয়ে আরও সুনির্দিষ্ট তদন্ত প্রয়োজন। ঠিকাদার অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রহমান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রহমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও সাড়া দেননি তিনি।

তবে মেসার্স রহমান এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. রাজু আহমেদ বলেন, স্থানীয় লোকজন অনিয়মের অভিযোগ তুললেও মূলত সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই স্থানীয় লোকজন না বুঝে পিচঢালাই দেওয়ার পরের দিন ঢালাই তুলে ফেলেছে। সড়কের কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি।

এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, সড়কের কাজে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে আমাদের জানানো যেত। নিজের হাতে কার্পেটিং তুলে ফেলা অন্যায়। কার্পেটিং তুলে ফেলা স্থান শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পরিদর্শন করেছি। কার্পেটিং শুকানোর আগেই হাত দিয়ে ধরে ধরে কাঁচা কার্পেটিং তুলে ফেলা হয়েছে। এই কাজে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box